বাঁশখালীর বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসা থেকে এসএসসি-২০২৫ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবীদের সংবর্ধিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঁশখালী উপজেলা শাখা।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

যেকোন ধরনের উন্নয়নের পূর্বশর্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ। আমরা বাঁশখালীর যোগাযোগ ভোগান্তির চুড়ান্ত অবসান করতে চাই।
আমরা মনে করি দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরী করা না গেলে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনাই ফলপ্রসূ হয়না।
জনবলকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা না গেলে একটা জনপদের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা সেক্টর ভিত্তিক দক্ষ জনবল তৈরী করতে চাই।
যোগাযোগের দূরাবস্থা আমাদের জাতীয় সমস্যাগুলোর একটি। অথচ আজকের যুগে যোগাযোগ যত উন্নত রাষ্ট্রও তত উন্নত। বাংলাদেশের মানুষের গড়ে দৈনিক ২-৩ ঘন্টার কর্মঘন্টা নষ্ট হয় অনুন্নত যোগাযোগের কারনে। আর বাঁশখালীতে এই সমস্যা জীবন মরণের। অপর্যাপ্ত রাস্তাঘাট মানুষকে তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্ছিত করছে।
বাঁশখালীর ৫০% এর বেশী জনসংখ্যা তরুণ। তারুণ্যের এই অপর সম্ভাবনার একটা বড় অংশ বোরত্বের করাল গ্রাসে জর্জরিত। অথচ পাহাড়-সমূদ্রে ঘেরা অমিত সম্ভাবনার এই জনপদ স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সক্ষমতা রাখে। এছাড়াও তরুণদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জব মার্কেটে অবস্থান করে নিতে পারবে সহজেই।
সরকারী মেকিলে ও ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল, উন্নত কিৎিসা সরাঞ্জম এবং কড়া জবাবদিহিতা নিশ্চৎ করা গেলে বাঁশখালীর মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হবেনা। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী ধারণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য বড় একটি সরকারী হাসপাতাল তৈরী করার উদ্যোগ নেয়া জরুরী।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পরবর্তী পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো AI, IoT, Machine Learning এর মতো প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে সর্বক্ষেত্রে নিজেদের এগিয়ে রাখছে। সব ধরনের নাগরিক সেবায় এসব প্রযুক্তির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমরা এগিয়ে যাবো বহুগুণে। নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার সেবা গ্রহণ সহজ করার পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
সাটিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন একদিকে শিক্ষিত বেকার তৈরী করছে অন্যদিকে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থার কুফল প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ভেতর থেকে। দক্ষতা ভিত্তিক যোগ্য নাগরিক তৈরীতে সর্বাধুনিক কারিকুলামের সাথে শক্তিশালী নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় করা গেলে জনবলকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা যাবে সহজেই।
দুইবারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও একবারের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পুরো বাঁশখালীতে জনপ্রশাসন পরিচালনয় ২০+ বছরের অভিজ্ঞতা।
অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামের পুরো বাঁশখালী জুড়ে রয়েছে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো যা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
দেশ ও দশের স্বার্থে পূর্ণ আমানতদারীতার সাথে কাজ করার মতো দক্ষ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক জনবল রয়েছে অধ্যক্ষ্য মাওলানা জহিরুল ইসলামের।
একজন আলেম ও শিক্ষক হিসেবে জনগণের আমানতের সুরক্ষায় দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যপরায়নতার যায়গায় অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম অনন্য।
কালো টাকা ও পেশীশক্তি নির্ভর রাজনীতি জনগণকে নির্দিষ্ট দল ও ব্যক্তির কাছে জিম্মি করে রাখে। নির্বাচনে ঢালা কোটি কোটি কালো টাকা তুলে নিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দল লিপ্ত হয় সীমাহিন দুর্নীতি ও লুটপাটে। তাই আমরা জনগণের অংশগ্রহণেই নির্মাণ করি জনপদের রাজনীতি।
বাঁশখালীর বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসা থেকে এসএসসি-২০২৫ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবীদের সংবর্ধিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাঁশখালী উপজেলা শাখা।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

১৯ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন বাঁশখালী উপজেলার সাবেক সফল চেয়ারম্যান, বাঁশখালী থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষা মওলানা জহিরুল ইসলাম।

বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্ৰামে হযরত বকশী (রাহ) পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বাঁশখালী উপজেলা জামায়াত ।

বাঁশখালীর মাঝ বরাবর বয়ে যাওয়া জলকদরের সুষ্টু ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পুরো বাঁশখালীর কৃষি, যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
একটি সমূদ্র উপকূলবর্তী জনপদ হিসেবে বাঁশখালী জলবায়ু হুমকির সামনের সারির ভুক্তভোগী। তাই ভারী শিল্পায়ন ও অতি নগরায়ন এই জনপদের জন্য আত্মবিধ্বংসী।
আমরা বাঁশখালীর বৈচিত্রময় ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে ব্যাপকভাবে বানিজ্যিকীকরন করতে চাই কোন ধরনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই।
আমরা অবারিত সবুজ পাহাড়কে পরিকল্পিত কৃষি ও বানিজ্যিক বনায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছি। চা ও পান চাষের সম্প্রসারণ এবং লিচু ও অন্যান্য দামী দেশীয় ফলের প্রযুক্তি নির্ভর আবাদে আমাদের পাহাড়কে কাজে লাগানো সম্ভব
আমাদের সমতলভূমিগুলোকে পরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় এনে সবজি ও শস্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। ব্যাপক উৎপাদনকে হাই ভ্যালু ইকোনমিতে ট্রান্সফর্ম করার জন্য আমাদের প্রযুক্তি নির্ভর নিজস্ব সাপ্লাই চেইন ও বাজার ব্যবস্থাপনা তৈরীর পরিকল্পনা আছে যার প্রতিটা ধাপে হাজার হাজার শিক্ষিত তারুণ্যের সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরী হবে
আমরা আমাদের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতিকে হাই ভ্যালু ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের আকাঙ্খা একসাথে পাহাড়-সমূদ্রের এই রেয়ার ট্যুরিজমকে আমরা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
আমাদের হাতে আছে অবারিত সমূদ্র সম্পদ যার ৫-১০% ও আমরা ব্যবহার করতে পারিনা। ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে মৎস চাষ, পোনা সংগ্রহ ও মৎস আহরণকে বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করা সম্ভব। আমাদের সেই রিসোর্স আছে, আমরা সেটা পারবো ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও উপকূলীয় লবন শিল্পকে আমরা পূর্ণতা দিতে চাই। লবনের উৎপাদনের পাশাপাশি প্রসেসিং, প্যাকেজিং এবং বিপনন ব্যবস্থাও আমাদের নিজস্ব হবে ইনশাআল্লাহ। এতেকরে কেজি ৪০-৫০ টাকা দামের লবন মন ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি করতে হবেনা। আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
আমরা বাঁশখালীর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যাপকভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যাতে করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিট থেকে লার্জ স্কেলের প্রোডাকশন আসে, যাতে করে পরিবারের নারীরা পারিবারিক অর্থনীতিতে কন্ট্রিবিউট করতে পারে, যাতে করে কৃষি বা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি প্রত্যেকটা পরিবারের কোন কোন একটা বিজনেস থাকে।
এই খাতে আমরা বাঁশখালীতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সরকারী সংস্থা ও এনজিওর মাধ্যমে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো এবং উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।
আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত মানের হয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালীর দূরত্ব হবে আধঘন্টার। আমরা উত্তরে চট্টগ্রাম শহর ও দক্ষিণে গড়ে উঠতে যাওয়া
মহেশখালী-মাতারবাড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনকে টার্গেট করে বাঁশখালীতে পরিকল্পিত বানিজ্যিক আবাসন প্রকল্প তৈরীর মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এতে করে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাঁশখালীর মানুষের জীবনমান আরো উন্নত হবে এবং এই জনপদ আরো বসবাসযোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
পাহাড়, সমূদ্র আর সমতল মিলে এমন বৈচিত্রময় পর্যটন সম্ভাবনা পৃথিবীর খুব দেশেই আছে। এই সম্ভাবনাকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই, বাঁশখালীকে গড়ে তুলতে চাই আন্তর্জাতিক পর্যটন স্পট হিসেবে।